১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি| সকাল ৮:১১| গ্রীষ্মকাল|
শিরোনাম:
পরীক্ষার্থীকে কাঁধে করে হলে পৌঁছে দিলেন ছাত্রদল নেতা মানিক নগরীর মশা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছেন প্রশাসক টিপু বরুড়ায় হাফেজ আব্দুল হালিমের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ আমার কাছে মনে হচ্ছে মশা কমেছে বাকিটা তো আপনারা বলতে পারবেন-প্রশাসক টিপু কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে: ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ কনস্টেবল, কারা দিচ্ছে মদদ? দেবিদ্বারে রেজভিউল আহসান মুন্সির আগমন উপলক্ষে বিএনপির শোডাউন জিম্মি করে মঞ্জুরুল মুন্সির প্রাক্তন পুত্রবধূ বুবলি হতে চান এমপি;বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ন্যায় বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মানবাধিকার কর্মী শুভ্র সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে ইঞ্জি: রিপন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার তুঙ্গে এটিএম মিজান

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে: কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫,
  • 169 Time View

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে: কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

নোমাইনুল ইসলাম
বাঘাইছড়ি(রাঙ্গামাটি)প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয় কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসে। প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ফলাফল সন্তোষজনক ও প্রশংসনীয় হয়ে থাকে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং ৩৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের সড়কটি ডুবে যাওয়ায় পুরো শিক্ষা কার্যক্রমই স্থবির হয়ে পড়েছে। লাল মিয়ার বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের মাঠ পর্যন্ত রাস্তাটি টানা ৭-৮ দিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না। যার কারণে ১০ম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষাও বন্ধ হয়ে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, “এ বিদ্যালয়ে শুধু বাঘাইছড়ি পৌর এলাকা নয়, পুরো উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করছে। প্রতিবছর বর্ষায় লাল মিয়ার বাড়ি থেকে স্কুল মাঠ পর্যন্ত রাস্তাটি হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। এবারে টানা ৭-৮ দিন ধরে রাস্তাটি ডুবে আছে। গত বছরও আমরা বিষয়টি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। কিন্তু এখনও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিদ্যালয়টি প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকা পৌর কর পরিশোধ করে। অথচ শিক্ষার্থীরদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এভাবে দীর্ঘদিন চললে শিক্ষার মান ও পরিবেশের চরমভাবে ক্ষতি হবে।”

আরেক সহকারী শিক্ষক লোকবল তালুকদার বলেন, “শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারছেন না, শিক্ষার্থীরাও আসতে পারছে না। এতে শুধু পাঠদান বন্ধ হচ্ছে না, পরীক্ষাও নেওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে সময় নষ্ট করছে। এভাবে চললে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হবে। শুধু পড়াশোনা নয়, মানসিক চাপও বেড়ে যায়। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

দশম শ্রেণির ছাত্রী ভূমিকা চাকমা বলেন, “প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। স্কুলে আসা যায় না, বাড়িতে বসে পড়াশোনা করা কঠিন। দ্রুত রাস্তাটি সংস্থার করে উঁচু করা হোক।”

নবম শ্রেণির ছাত্রী নওরীন জাহান রিয়া বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে আসা ভয়ঙ্কর হয়ে গেছে। বর্ষাকালে পানি ডিঙিয়ে আসতে গিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। এখন পুরো রাস্তা পানির নিচে। এতে পড়াশোনার ক্ষতি ছাড়াও ছাত্রীদের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে।”

সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানানো হয়েছিল এবং সংস্কারের জন্য আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়ে গেছে।

সকলের দাবি একটাই— বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটি লাল মিয়ার বাড়ি থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত কমপক্ষে তিন ফুট উঁচু করে সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হোক, যাতে সারা বছর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category