১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি| সন্ধ্যা ৭:২১| বসন্তকাল|

সংরক্ষিত নারী আসনে অর্ধ ডজন প্রার্থী আলোচনায় 

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬,
  • 53 Time View
Oplus_0

সংরক্ষিত নারী আসনে অর্ধ ডজন প্রার্থী আলোচনায় 

ফজলুল হক জয় ||

সংরক্ষিত নারী আসনে এম পি হতে কুমিল্লায় বিএনপি নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীসভা গঠনের পর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই নিজের প্রার্থিতা জানান দিতে নিজ জেলার এমপি-মন্ত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আবার অনেকেই ছুটছেন রাজধানীতে দলের সিনিয়র নেতাদের দ্বারে দ্বারে।

আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, পারিবারিক পরিচিতি, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে অনেকে আবার জীবন বৃত্তান্ত বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপির প্রার্থী জয় লাভ করেন।তন্মধ্যে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, জাকারিয়া তাহের সুমন এবং কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।এরই মধ্যে কুমিল্লায় বিএনপি থেকে ৬-৭ নারী নেত্রীর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

‘গুম’ হওয়া লাকসাম পৌর বিএনপির তৎকালীন সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের সহধর্মিনী শাহনাজ আক্তার এবার সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। শাহনাজ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর লাকসাম পৌরসভার মেয়র নির্বাচন হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি লাকসাম পৌর বিএনপির সহসভাপতি। বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি। ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে র‍্যাব সদস্যরা সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ ও পৌর বিএনপির তৎকালীন সহসাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যান। পরে হিরু ও পারভেজের হদিস মেলেনি। স্থানীয় সূত্র বলছে, স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন শাহনাজ। গুমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেমিনার, প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন তিনি। শাহনাজ আক্তার বলেন, দলের জন্য তাঁর পরিবারের ত্যাগ আছে। তাঁর স্বামী গুম হয়েছেন। ১৩ বছর ধরে মাঠে কাজ করেছেন তিনি। স্বামীর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে দল তাঁকে এমপি হতে সুযোগ করে দেবে বলে আশা করছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সংগঠক এবং নারী উদ্যোক্তা সোহানা সুলতানা শিউলি।তিনি কুমিল্লা-১০ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন শেষ পর্যন্ত দলের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ধানের শেষের পক্ষে কাজ করেছেন। জানা গেছে,সোহানা সুলতানা শিউলি গত ১৭ বছরের বেশ কিছু সময় ধরে দলের দুঃসময়ে নীরবে- নিভৃতে দলকে সামনে এগিয়ে নেবার জন্যে কাজ করেছেন,নিজের অর্থ ব্যয় করেছেন।একান্ত আলাপচারিতায় সোহানা সুলতানা শিউলি বলেন,দলের কল্যাণে মানুষের কল্যাণে সব সময় কাজ করেছি।সংরক্ষিত নারী কোটায় দল সুযোগ দিলে কথা দিচ্ছি দলের আদর্শকে বাস্তবায়ন করার জন্য আরো জোরালোভাবে সারা জীবন কাজ করে যাবো।

সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা কেন্দ্রীয় মহিলা দল ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর প্রয়াত স্বামী আলা উদ্দিন আহমেদ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক তিনি। হেনা বলেন, ২০০৮ সালে দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন থানায় ৮টি ও কুমিল্লায় একটি মিথ্যা মামলা হয়। মামলা হামলার ভয়ে মাসের পর মাস কুমিল্লা ও ঢাকার বাসায় ঘুমাতে পারেননি। স্বামীর প্রিয় সংগঠনকে আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা তাঁর।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাকিনা বেগম। এছাড়া তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে বিএনপির দক্ষিণ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর স্বামী অধ্যাপক ডা. আবদুল লতিফ। সাকিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

দিলারা শিরিন মেঘনা উপজেলা পরিষদের তিনবারের ভাইস চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা উত্তর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি মেঘনা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ছিলেন। দিলারা বলেন, এক সময় অবহেলিত উপজেলা ছিল মেঘনা। সেখানে নারীদের নিয়ে দল সংগঠিত করা কঠিন কাজ ছিল। প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরই নেতৃত্বে মহিলা দল দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। দল মূল্যালন করবে বলে আশা তাঁর।
সামিরা আজিম দোলা কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে। দোলা এবারের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। পরে কেন্দ্রের নির্দেশে দলের প্রার্থী আবুল কালামের পক্ষে কাজ করেন তিনি। তাঁর স্বামী একজন ব্যবসায়ী।

দোলা বলেন, দলের নির্দেশে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন দল ক্ষমতায় গেলে তাঁকে মুল্যায়ন করবেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় আছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ডালিয়া রহমান। ডালিয়ার বাড়ি বরুড়া পৌরসভার অর্জুনতলা এলাকায়।
সংরিক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) সেলিম ভূঁইয়া বলেন, নারী আসনের প্রাথী হিসেবে দলের অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি বলেন,দলীয় হাই কমান্ডাই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category