১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি| সন্ধ্যা ৭:২৪| বসন্তকাল|

কুমিল্লা-৪; হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বড় ঝুঁকিতে: আপিলে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬,
  • 80 Time View

কুমিল্লা-৪; হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বড় ঝুঁকিতে: আপিলে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি

ডেস্ক নিউজ ||

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ–এর মনোনয়ন এখন বড় ধরনের আইনি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা পূর্ণাঙ্গ আপিলে তার মনোনয়ন গ্রহণের সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং মনোনয়ন বাতিলের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আইন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই আপিলটি কেবল রাজনৈতিক আপত্তি নয়; বরং এতে এমন কিছু গুরুতর বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো প্রমাণিত হলে মনোনয়ন বহাল রাখা নির্বাচন কমিশনের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
হলফনামায় আত্মবিরোধী তথ্য, বড় প্রশ্ন যোগ্যতা নিয়ে
আপিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে হলফনামা সংক্রান্ত অভিযোগ। সেখানে বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য ও পূর্বে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে একই ডকুমেন্টে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একাধিক জায়গায় “না” ও “প্রযোজ্য নয়” ধরনের উত্তর দেওয়া হয়েছে, যা আইনের ভাষায় তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নির্বাচনী আইনে হলফনামার তথ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। ভুল বা অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে সরাসরি মনোনয়ন বাতিলের নজিরও রয়েছে।
সম্পদ বিবরণে বড় অঙ্কের গরমিল
আপিলে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো সম্পদ বিবরণে বড় ধরনের অসঙ্গতি। এক অংশে ২০ ভরি স্বর্ণের মূল্য শূন্য টাকা দেখানো হলেও অন্য অংশে একই স্বর্ণালংকারের মূল্য ২৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গরমিলকে কোনো সাধারণ ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ খুব সীমিত।
আয়কর ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন
আপিলে দাবি করা হয়, প্রার্থীর নিজের আয়কর তথ্য দেওয়া হলেও তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়নি, যা নির্বাচন আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে “সাধারণ জনগণের অনুদান” উল্লেখ করা হলেও এর কোনো নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস ও আয়কর সংক্রান্ত ত্রুটি একসঙ্গে থাকলে তা মনোনয়নের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন
আপিলে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও কঠোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, চোখে পড়ার মতো অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও যথাযথ যাচাই না করে যান্ত্রিকভাবে মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চাইলে এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারে।
মনোনয়ন বাতিল কি অনিবার্য?
যদিও এখনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা বলছেন—এই আপিলে উত্থাপিত বিষয়গুলো হালকাভাবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ খুব কম। শুনানিতে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে মনোনয়ন বাতিলের ঝুঁকি যে বাস্তব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বর্তমানে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন এখন শুধু বিতর্কিত নয়, বরং বাতিলের দিকেই বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category